বরিশালের গৌরনদী সাত বছরে হয়নি পাসপোর্ট রাস্তার ফকির রহমান বেপারী


বিডি কামাল,গৌরনদী।
বরিশালের গৌরনদীর উপজেলার খাঞ্জাপুর গ্রামের হতদরিদ্র রহমান বেপাারী বিদেশ যাওয়ার আসায়, পাসপোর্ট তৈরি করতে দিয়েছিলেন টরকি বন্দরের প্রভাবশালী পাসপোর্ট দালাল নারায়ন পোদ্দার কাছে। এলাকায় কথিত আছে সাপের মন্ত্র ভ‚ল হতে পারে কিন্তু নারায়ন দালালের হাতে পাসপোর্ট মিস নাই।
কিন্তু তারপরেও বিপত্তি, সাত বছর পার করেও পাসপোর্টই করতে পারেননি রহমান বেপারী। কোন সন্ত্রাসি না বা থানায় কোন অভিযোগও নেই। পাসপোর্ট করে প্রবাসে গিয়ে পরিবারের সবার মুখে হাসি ফোটানোর কথা থাকলেও সব শেষ করে, এক সময়ের টগবগে যুবক এখন মাটি কাটা লেবার। বরিশাল জেলা পাসপোর্ট অফিস জানিয়েছে তাদের কিছু করার নেই।
গতকাল রবিবার দুপুরে ভুক্তভোগি রহমান বেপারী জানান,২০১৬ সালে গৌরনদী উপজেলার টরকি বন্দরের প্রভাবশালী পাসপোর্ট দালাল নারায়ন পোদ্দারের কাছে প্রথমে ছয় হাজার টাকার চুক্তিতে পাসপোর্ট করতে দেই। ছয়মাসের মধ্যে পাসপোর্ট হাতে পাবে। কিন্তু পাসপোর্ট আর আসে না। পাসপোর্ট দালাল নারায়ন জানায় ঠিকানা ভ‚ল থাকায় ডিএজবি রিপোর্ট খারাপ দিয়েছে। যে কারনে নতুন করে ঢাকা থেকে পাসপোর্ট করতে হবে। এবার ১২ হাজার টাকা চুক্তিতে নারায়নের মাধ্যমে ঢাকায় গিয়ে পাসপোর্ট করতে দেই। এবারও মাসের পর মাস চলে গেলে পাসপোর্ট আর আসে না। নারায়নকে জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলে দুই জায়গায় আবেদন করার কারনে একটু সমস্যা হয়েছে। বরিশাল অফিসে দরখাস্ত করে জানালে সব ঠিক হয়ে যাবে। সে কথা অনুযায়ী বরিশালে আবেদন করা হলে তারা বলে ঢাকা যেতে হবে এখানে কিছু হবে না। আবার ঢাকা অফিসে গেলে বলে বরিশাল অফিসে যেতে হবে। এভাবে ঢাকা-বরিশাল দৌর, অপরদিকে সৌদি আরব যাওয়ার আশায় টাকা জমা দিয়ে সে ভিসাও নষ্ট হয়েছে, সেখানেও অনেক টাকা লস দিতে হয়েছে। জমিজমা বিক্রি এনজিও থেকে লোন করে এর মধ্যে আমরা সর্বসান্ত হয়ে গেছি। আর এভাবেই ২০১৬ সাল থেকে এই সাত বছর নারায়নের কাছে আমরা ভুকতেছি।
রহমানের বাবা মান্নান বেপারী কান্না করে বলেন, ঢাকা-বরিশাল আসা যাওয়ায় আমার লাখ টাকার বেশী খরচ হয়েছে। কতবার গেছি মনে নাই করোনার মধ্যে ডাবল ভাড়া দিয়েও ঢাকায় যেতে হয়েছে। আমরা এখন রাস্তার ফকির। আমরা অশিক্ষিত মূর্খ বলে কি আমাদের এ অবস্থা করবে। অনেক টাকা দেনা হয়েছি তা কিভাবে পরিশোধ করবো। ছেলে বিদেশ যাবে এ আসায় ধানের জমিও বিক্রি করলাম এখন আমার কি হবে। আল্লাহ ছাড়া কার কাছে বিচার চাবো।
এ বিষয়ে নারায়ন কুন্ডর কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন,আমরা অন লাইনে কাজ করে দেই অনেকে বুঝে না এই জন্য। আমি কোন দালালি করি না।
বরিশাল জেলা পাসপোর্ট অফিসের সহকারি পরিচালক মাহমুদুল হাচান বলেন,আমাদের এখানে কিছু করার নেই,তাকে (রহমানকে) ঢাকায় যোগাযোগ করতে হবে।